অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সংকোচন ও ঋণ নির্ভরতা কমবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা হয়েছে ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশি ও বিদেশি উৎস মিলিয়ে সরকার ঋণ নিয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, যা এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। ফলে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকায়। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণচাপে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, মোট ঋণের মধ্যে দেশি ঋণ ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৯ কোটি এবং বিদেশি ঋণ ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ শেষে ঋণ ছিল ১৯ লাখ ২২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা—এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই বাদে বাকি সময়জুড়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে ছিল। তুলনামূলকভাবে আগের বছরগুলোতে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণ ছিল ২০২১-২২ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা; এবার তা প্রথমবার ৩ লাখ কোটি ছাড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট সহায়তা এসেছে, যা রিজার্ভে স্বস্তি দিলেও ঋণের বোঝা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বকেয়া পরিশোধ, ব্যাংক খাতে সহায়তা এবং রাজস্ব ঘাটতির চাপ ঋণনির্ভরতা বাড়িয়েছে। সুদ বাবদ ব্যয়ই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা—মোট ব্যয়ের ২১ শতাংশের বেশি। সামনে ট্রেজারি বন্ডের বড় অঙ্কের মেয়াদপূর্তিও নতুন চাপ তৈরি করবে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পসহ মেট্রোরেল, দোহাজারী–কক্সবাজার রেল, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগের মতো বড় প্রকল্পের কিস্তি ও সুদ আগামী বছরগুলোতে ব্যয় বাড়াবে।
রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা, রপ্তানিতে মন্থরতা এবং বাড়তি পরিচালন ব্যয় মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ঋণের অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—সে বিষয়ে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং রাজস্ব সংস্কার জোরদার না হলে আগামী সরকারগুলোকেও একই চাপ বহন করতে হবে।