দুদিনের বিরতির পর চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চার দফা দাবিতে বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা এই ধর্মঘট পালন করছেন। এবার বন্দরের বহির্নোঙরেও ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়ে বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, প্রধান দাবিগুলো হলো—ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার স্পষ্ট সরকারি ঘোষণা, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, আইনি পদক্ষেপের নিশ্চয়তা এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ। পূর্বে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একই কারণে কর্মবিরতি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার কারণে বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, বৈঠকের পরেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আবেদন করেছে। ধর্মঘটের কারণে এনসিটি, চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯১ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তাই দীর্ঘস্থায়ী ধর্মঘটের ফলে রপ্তানি খাত ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।