দখিনের সময় ডেক্স:
স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর বন্দোবস্ত করতেন খোদ স্বামীই! অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মাদকাসক্ত স্ত্রীর সঙ্গে যৌনমিলনের জন্য অপরিচিতদের আমন্ত্রণ জানাতেন তিনি। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণ কেউ নন। কনজারভেটিভ পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর ফিলিপের। তার বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ভাবে তাঁর তৎকালীন স্ত্রীকে মাদকদ্রব্য সেবন করাতেন। সেই মাদকের প্রভাবে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন জোয়ান। এর পর জোয়ানের অজান্তে এবং তিনি কার্যত অচেতন থাকাকালীনই অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে তাঁর যৌনমিলনের ব্যবস্থা করতেন স্বামী।
আদালতে আরও জানানো হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জোয়ানের ৫০০টিরও বেশি অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিলেন ইয়ং। পাশাপাশি, প্রাক্তন স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো করার অভিযোগও রয়েছে প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। সুইনডনে বসবাসকারী ইয়ং বর্তমানে লন্ডনের এনফিল্ডে থাকেন। শিশুদের অশ্লীল ছবি তৈরির তিনটি অভিযোগ, শিশুদের নিষিদ্ধ ছবি রাখার একটি অভিযোগ এবং চরম অশ্লীল ছবি সংক্রান্ত চারটি অভিযোগও স্বীকার করেছেন প্রাক্তন এই রাজনীতিবিদ।
ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক একটি মামলার তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ফাঁস হয়েছে এই ভয়াবহ ঘটনা। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার বসেছে ইংল্যান্ডের উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে। নিগৃহীতার ৫০ বছর বয়সি স্বামী ফিলিপ ইয়ং ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক যৌন অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। ১৩ বছর ধরে তৎকালীন স্ত্রীর উপর নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছেন তিনি। চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিগৃহীতার প্রাক্তন স্বামী ফিলিপ ইয়ং তাঁকে মাদক খাইয়ে নির্যাতনের ব্যবস্থা করতেন এবং সেই ঘটনার ভিডিয়োও ধারণ করতেন। এমনকি, মহিলার অজান্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁর ধর্ষণের মুহূর্তের ভিডিয়ো বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিতেন। বিবিসি-র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরম্যান ম্যাকসোনি, রিচার্ড উইলকিন্স, কনর স্যান্ডারসন-ডয়েল এবং মহম্মদ হাসান নামের চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখিত অপরাধগুলি ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংঘটিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
জানা গিয়েছে, ওই মহিলার প্রাক্তন স্বামী, ৫০ বছর বয়সি ফিলিপ ইয়ং চলতি বছরের (২০২৬ সালের) গোড়ার দিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক যৌন অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। টানা ১৩ বছর ধরে আক্রান্ত মহিলাকে মাদক খাইয়ে তাঁকে ধর্ষণ করানোর অভিযোগও মেনে নিয়েছেন ফিলিপ। প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে ঘটানো একাধিক যৌন অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এই প্রৌঢ়। তাঁর স্বীকারোক্তির মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্ষণ, ১৪টি ভয়্যারিজ়ম বা গোপনে অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখার অপরাধ, জোর করে মাদক প্রয়োগের ১১টি অভিযোগ, অনুপ্রবেশমূলক যৌন আক্রমণের সাতটি অভিযোগ, যৌন নিপীড়নের চারটি অভিযোগ এবং অশ্লীল প্রবন্ধ প্রকাশের একটি অভিযোগ। প্রাক্তন স্ত্রীও নিজের পরিচয় গোপন রাখার আইনি অধিকার স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেছেন। ফলে, নিগৃহীতার নাম প্রকাশ করা হয়েছে সংবাদ প্রতিবেদনে। মহিলার নাম জোয়ান ইয়ং। জোয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের আগে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে যৌনজীবন ছিল বেশ স্বাভাবিক এবং সর্বদা একগামী।
অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য পুরুষদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েবসাইটে স্ত্রীর ছবি পোস্ট করতেন ফিলিপ। ওই ছবিগুলিতে তাঁর স্ত্রীকে বিছানায় চোখ এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যেত বলে দাবি করা হয়েছে আদালতে। এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় প্রসিকিউটর সারা জোন্স কেসির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। তিনি জুরিকে জানান, মামলার মূল প্রশ্ন হল, কোনও অপরিচিত নারীর সম্মতি না নিয়ে তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়াকে আদৌ যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করা যায় কি না। সারা আদালতে জানান, প্রথমে এই মামলায় ফিলিপ গোটা বিষয়টিকে তাঁদের দু’জনেরই বিকৃত যৌনরুচি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু, জোয়ানের বক্তব্যে এই দাবির সমর্থনে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৫ সাল থেকেই ইয়ং এমন ওষুধের সন্ধান করছিলেন, যা দিয়ে তাঁর তৎকালীন স্ত্রীকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে রাখা যাবে এবং সেই মাদক সেবনের পর তাঁর স্ত্রী দিশেহারা হয়ে পড়বেন। আশপাশে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে অচেতন থাকবেন এবং তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা মনে করতে পারবেন না। ১১) আদালতকে এও জানানো হয়েছে, ইয়ং নিজে এই ঘটনাগুলি দেখতেন এবং ভিডিয়ো তৈরি করতেন। স্বামীর সঙ্গে সম্মতিসূচক যৌনক্রিয়ার সময় জোয়ান চোখে পট্টি বাঁধা ও হাত-পা আবদ্ধ রাখতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু, মাদকের প্রভাবে থাকাকালীন কে তাঁর শয্যাসঙ্গী হচ্ছেন, তা খেয়াল করতে পারতেন না জোয়ান। এই সুযোগেই অপরিচিত পুরুষদের টাকার বিনিময়ে তাঁর অচেতন স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাতেন ইয়ং। সরকারি আইনজীবীদের বক্তব্য, অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে জোয়ানের সম্মত ছিল, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফিলিপের এই ধর্ষকামিতার কথা প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালে। ফিলিপের নামের সঙ্গে যুক্ত একটি অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে পশুকামিতার ছবি পোস্ট করার পর এই ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে পুলিশ ছবি পোস্টের সূত্র ধরে ফিলিপের বৈদ্যুতিন যন্ত্রগুলি বাজেয়াপ্ত করে।
সেই যন্ত্রগুলি ঘেঁটে চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারী আধিকারিকদের। সেখানে জোয়ানকে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের গুচ্ছ গুচ্ছ ভিডিয়ো উদ্ধার করেন তাঁরা। ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। জোয়ানের উপর নিপীড়নের বর্ণনার কথা আদালতেও প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। ২০২৩ সালের একটি ঘটনারও বর্ণনা দিয়েছেন তাঁরা। হাত-পা বাঁধা ও চোখে পট্টি লাগানো অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর জোয়ান বিশ্বাস করতেন, স্বামীই তাঁর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন। অথচ দিনের পর দিন, তাঁর অজান্তে বা সম্মতি ছাড়াই অন্য একাধিক পুরুষ তাঁর স্বামীর জায়গা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন সরকারি আইনজীবী।
পুলিশের উদ্ধার করা কয়েকশো ভয়াবহ ভিডিয়ো ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছে আদালতে। রায় ঘোষণার আগে বিচার চলাকালীন উপস্থাপিত সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখবে জুরি। এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০২৩ সালে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।