খুলনা অঞ্চলের লবণাক্ত ও পতিত জমি এখন সূর্যমুখীর সোনালি রঙে ঝলমল করছে। উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে সফল চাষাবাদের পর সূর্যমুখী জেলায় ভোজ্যতেল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২১৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১১১ হেক্টর বেশি। ২০২৫–২৬ মৌসুমে ১ হাজার ৩১৯ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯২ শতাংশ আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য উৎপাদন থেকে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার লিটার ভোজ্যতেল পাওয়া যেতে পারে, যা আমদানি নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে। সরেজমিনে ডুমুরিয়ায় বিস্তীর্ণ সূর্যমুখী ক্ষেত যেন হলুদ কার্পেটের মতো চোখ জুড়ায়।
কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘায় সাত থেকে দশ মণ বীজ পাওয়া যায় এবং প্রতি কেজি বীজ থেকে প্রায় আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমান বাজারদরে প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেল প্রায় ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে চাষ খরচ তুলনামূলক কম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহের মাধ্যমে চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছেন। তাদের মতে, সূর্যমুখী শুধু একটি ফুল নয়, বরং উপকূলীয় অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন প্রতীক।