• ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হচ্ছে

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১৯:৪৮ অপরাহ্ণ
সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হচ্ছে
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে চাইছে বাংলাদেশ। আর এজন্য চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিক (সরকার থেকে সরকার) এক চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এ চুক্তির জন্য ‘ইস্টাবলিশমেন্ট অব ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট এন্ড ট্রান্সফার অব টেকনোলজি (টিওটি) ফর আনম্যানড এরিয়াল ভ্যাহিকেল (ইউএভি)’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
গত ৬ জানুয়ারি অনুমোদনকৃত ওই প্রস্তাবের কপি অনুযায়ী, ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট, প্রযুক্তি আমদানি ও স্থাপনের জন্য এলসি খোলা এবং পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চার অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। চলতি অর্থবছরে ১০৬ কোটি টাকা, আগামী ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ প্রত্যেক অর্থবছরে ১৫৫ কোটি টাকা করে এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে প্রায় ১৫৪.৬০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৩৭.৪৭ কোটি টাকা এলসি খোলার চার্জ, ভ্যাট ও সুইফট চার্জ হিসেবে দেশীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ড্রোন কারখানা স্থাপন বা যুদ্ধবিমান আমদানির বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। কোন দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কেনা হবে—এ নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে। তাই এখনই ড্রোন বা যুদ্ধবিমান নিয়ে কিছু বলছি না। সবকিছু আগে চূড়ান্ত হোক।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান—চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের সরবরাহকৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী দেশেই ড্রোন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা অর্জন করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক আয়শা সিদ্দিকা বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিমান বাহিনী থেকে কোনো প্রেস রিলিজ বা তথ্য এলে আমরা জানাতে পারব।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত একটি সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জানানো হয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) বা ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে অংশীদার হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রযুক্তির সব খাতজুড়ে কার্যক্রম থাকা চীনের একমাত্র বৃহৎ প্রযুক্তি করপোরেশন এটি, যার আওতায় রয়েছে প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স, নিরাপত্তা ইলেকট্রনিক্স ও ইনফরমাইজেশন। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ও সেবা বর্তমানে বিশ্বের ১১০টির বেশি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।