চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনসহ দুটি দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় ভেঙ্গে যেতেপারে ১১ দলীয় জোট। জামায়াতকে ঘিরে ‘অবিশ্বাস’ আর সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে এ জোটে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। শেষপর্যন্ত প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের একাধিক নেতা। তাদের সঙ্গে আরো দু’একটি দল যেতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আলাদা জোট গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। আসন সমঝোতার চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে আগের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও স্থগিত করতে হয়েছে। যদিও জামায়াত নেতারা বলছেন, শেষমুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে জোট টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু যখন অবিশ্বাস বা সন্দেহ তৈরি হয়, তখন সংকট গভীরে চলে গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
ইসলামী দলগুলোর এক বাক্সে ভোট–– এই স্লোগান নিয়ে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামী দল আসন সমঝোতার মোর্চা গঠন করে যাত্রা শুরু করেছিল অন্তত নয় মাস আগে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনেও নেমেছিল ওই মোর্চা। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে আন্দোলন থেকে সরে এসে তারা তৎপর হয় আসন সমঝোতায়। এরই মধ্যে সরাসরি ধর্মভিত্তিক দল নয়, এমন তিনটি দল আসন ভাগাভাগিতে যোগ দিলে মোর্চাটিকে ১১ দলের আসন সমঝোতার জোটে রূপ দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। তখন ইসলামী দলগুলোর এক বাক্সে ভোট–– এই স্লোগান সেভাবে সামনে আনা হয়নি। অবশ্য জোটের ভিকরই ভেতরেই এখন প্রশ্নও উঠেছে, ১১ দলের এই ঐক্য আসলে একটি জোট, নাকি আসন ভাগাভাগির একটি প্ল্যাটফর্ম!
প্রথমে যে দলটি ইসলামী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার স্লোগান দিয়েছিল, সেই ইসলামী আন্দোলন তাদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এনেছে। দলটির নেতারা বলছেন, ১১ দলের আসন ভাগাভাগিতে তাদের দাবি ছিল ১০০ আসন। ঐক্যের স্বার্থে তারা আগের দাবি থেকে সরে এসে অন্তত ৫০টি আসন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের ৪০টির বেশি আসনে ছাড় দিতে রাজি নয় জামায়াত। এছাড়াও চরমোনাই ইউনিয়ন নিয়ে বরিশাল-৫ নির্বাচনী এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি। সেখানে প্রার্থী দলটির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বরিশালের ওই আসনেও ছাড় না দিয়ে জামায়াত প্রার্থী রেখেছে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসলামী আন্দোলন। দলটির নেতারা বলছেন, আসন নিয়ে তাদের ‘অপমান’, ‘অবহেলা’ করা হচ্ছে।
এদিকে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি থেকে ২৫টি আসন চেয়েছে। তাদের জামায়াত ছাড় দিয়েছে ১৩টি আসনে। ফলে এই খেলাফত মজলিসও অসন্তুষ্ট। এই দুই দলই শুধু নয়, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলও অসন্তুষ্ট আসন ভাগাভাগি নিয়ে।