Home ফিচার শরতের কাশফুলের সৌন্দর্যে স্বর্গীয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

শরতের কাশফুলের সৌন্দর্যে স্বর্গীয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

আরিফ হোসাইন

বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বরিশাল শহরের কোলঘেসে কীর্তনখোলা নদীর তীরে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত।প্রাচ্যের ভেনিস নামে পরিচিত, সবুজ-শ্যামল বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা সকলেরই জানা।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদামি রঙের ভবন আর সবুজ ক্যাম্পাসও যেন সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। পঞ্চাশ একরের এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে শরতের গন্ধহীন সাদা কাশফুল।

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে সকল ঋতুরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শরৎকালও তার ব্যতিক্রম নয়।শরতের আগমন হয় সাদা মেঘ,মৃদু বাতাস আর কাশফুল নিয়ে। শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য হয়তো সারাদেশ থেকেই দেখা যায়। কিন্তু ববি ক্যাম্পাসের মতো কাশফুলের সমাহার পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় কিনা আমার সন্দেহ হয়।

সাধারণত নদীর তীরে বালুময় পতিত বা অনাবাদি জমিতে কাশফুল ফোটে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবনের চারপাশ, ক্যাফেটেরিয়া ও কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনের দিকে, খেলার মাঠে,মসজিদ কিংবা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর চারপাশ কাশফুলে ঘেরা।ক্যাম্পাসে সর্বত্রই দেখা মিলে শরতের সাদা কাশফুল।মৃদু বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য যে কতটা মনোমুগ্ধকর তা ভাষায় প্রকাশ করার শব্দ হয়তো আমার জানা নেই।

শ্রেণিকক্ষে বসেই জানালা দিয়ে দেখা যায় কাশফুল।
শিক্ষার্থীরা সারাদিন পড়ালেখা, পরীক্ষা, সেমিনার, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও অবসর পেলেই চলে আসে ক্যাম্পাসের কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বরিশালের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন কাশফুল দেখতে এবং ঘুরতে আসে ববি ক্যাম্পাসে।অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে এই কাশফুলের দেশে।বয়স্করাও এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। ক্যাম্পাসের সুফিয়া কামাল চত্বর, একতা চত্বর, প্রীতিলতা চত্বর কিংবা মাঠের পাশে বসার জন্য তৈরি বেঞ্চ, কোথাও কোনো জায়গা ফাঁকা পাওয়া যায় না এখন। বন্ধু -বান্ধবী, সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য কিংবা প্রেমিক -প্রেমিকা এসব জায়গায় বসে আড্ডা দেয় এবং নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ানো আর কাশফুলের দোল খাওয়া দেখে।

ক্যাম্পাসে অনেক মেয়ের হাতেই কাশফুল দেখা যায়।বিকালে কেউ সাঝে শাড়িতে, আবার কেউ আসে পাঞ্জাবি পরে। অনেকেই সাদা কাশফুলের সাথে ক্যামেরাবন্দী হয়।কাশফুলের সাথে ছবি তোলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন মেয়ে নেই বললেই চলে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম কাশফুলের সাথে তোলা ছবিতে এক নতুন রূপ ধারণ করেছে।সবাই বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের ছবি, ভিডিও আপলোড দেয়, শেয়ার করে।

শরতের কাশফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে অনেক কবি সাহিত্যিক মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন কবিতা, ছোটগল্প,গায়কেরা লিখেছেন গান।কবি নির্মলেন্দু গুণ কাশফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন এভাবে-
” ওগো কাশের মেয়ে
আজকে আমার মন জুরালো তোমার দেখা পেয়ে,
তোমার হাতে বন্দী আমার ভালোবাসার কাশ
তাইতো আমি এই শরতে তোমার কৃতদাস। “

কাশফুল ববি ক্যাম্পাসকে স্বতন্ত্ররূপ দিয়েছে। দুইপাশে গন্ধহীন সাদা কাশফুল শরতের মৃদু বাতাসে দোলে, মাঝখানের রাস্তা দিয়ে হাটার অনুভুতি পৃথিবীর অন্য কোথাও না পেলেও, ববি ক্যাম্পাসে পাওয়া যায়।

লেখক: শিক্ষার্থী,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

আইফোনে পাসকোড ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ

দখিনের সময় ডেস্ক: স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। বর্তমানে আইফোনের জনপ্রিয়তাও বেশ। প্রয়োজনীয় প্রিয় ফোনটি চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে হতাশ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।...

আদা বেশি খাওয়ার অপকারিতা

দখিনের সময় ডেস্ক: আদার অনেক উপকারিতার কথা জেনেছেন নিশ্চয়ই। সর্দি-কাশি সারানো থেকে বমি বমিভাব দূর, নানা উপকারে লাগে এই ভেষজ। আবার আমাদের প্রতিদিনের রান্নায়ও ব্যবহার...

বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ের আভাস

দখিনের সময় ডেস্ক: দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার চার বিভাগে ঝড় হতে পারে। গতকাল বুধবার...

‘আমি বাংলাদেশ ছাড়তে চাই না’: ড. ইউনূস

দখিনের সময় ডেস্ক: জার্মানির সাপ্তাহিক ডি সাইট পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে জেল দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।...

Recent Comments