গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক অফিসের তাপমাত্রা কাজের উৎপাদনশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নারীদের কাজে। ২০১৫ সালে নেচার জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুসারে, অফিস ভবনের ভেতরে তাপমাত্রা সেট করা হয়েছে ‘১৯৬০ এর দশকে তৈরি করা থার্মাল কম্ফোর্ট মডেল অনুযায়ী’। এই হিমহিম ঠান্ডা নিয়ে যতই আলোচনা থাকুক, অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে তা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই।
স্থিতিশীল রাখতে সামান্য উষ্ণ পরিবেশ প্রয়োজন। কিংমা, নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিচ ইউনিভার্সিটির একজন বায়োফিজিসিস্ট এবং ন্যাচারাল ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার সহ-লেখক। এমন পার্থক্য হওয়ার আরেকটি মূল কারণ নারীদের গঠন পুরুষদের তুলনায় কিছুটা ছোট হয় এবং তাদের শরীরের চর্বি বেশি থাকে, যার কারণে খাবার হজমের শক্তি আসে চর্বি থেকে। চর্বি থেকে যে শক্তি আসে সেটি পেশী থেকে আসা শক্তির তুলনায় ধীরে কাজ করে। এ কারণে নারীদের শরীরে হজম প্রক্রিয়ায় তাপ কম উৎপন্ন হয়। তাই তাদের বেশি ঠান্ডার প্রয়োজন নেই। সাম্প্রতিক এই সমীক্ষা বলছে, “ বিশ্রামের সময় নারীদের তাপ উৎপাদন ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে”। আরেকটি বিষয় যা গবেষণায় উঠে আসেনি, সেটা হলো নারীরা সাধারণত আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরেন যা নারীদের ঠান্ডা লাগার একটি বড় কারণ কিন্তু অনেক অফিসে পুরুষদের স্যুট টাই পরে থাকতে হয়।
অফিসে এসির তাপমাত্রা যত বাড়ানো হবে অর্থাৎ ঠান্ডা যত কম হবে নারীদের কাজ করার সক্ষমতা তত বাড়বে। ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও বার্লিন সোশ্যাল সায়েন্স সেন্টারের এক নতুন যৌথ গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তাপমাত্রা বেশি হলে নারীরা গাণিতিক এবং কথা বলার মতো কাজগুলোয় আরও ভালো পারফর্ম করেন। কিন্তু তাপমাত্রা যখন কম থাকে তখন পুরুষদের পারফর্মেন্স ভালো হচ্ছে।“অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ঘরের ভেতরে বা যেকোনও আবদ্ধ পরিবেশে বেশি তাপমাত্রা পছন্দ করেন, কিন্তু এর সাথে যে তাদের কাজের উৎপাদনশীলতাও জড়িত, সে ব্যাপারে কেউ কথা বলেনি।”