ঘুষের টাকাসহ আটক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ছাড়াতে দুদক কার্যালয় ঘেরাও
দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ১৯:০৩ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
যশোরে নিজ কার্যালয়ে বসে লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ওই ঘুষের টাকাসহ তাকে আটক করে দুদক। কিন্তু, ওই কর্মকর্তাকে ছাড়াতে সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ৭ জানুয়ারি বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন আশরাফুল আলম। পরে তাকে দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আশরাফুল আলমকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দুদক কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা কার্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে দুদকের কর্মকর্তারা বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
মামলা শেষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে থানায় নেওয়ার জন্য পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় শিক্ষকেরা আবারও গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধকারীদের একজন সদর উপজেলার দত্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জব্বর। তিনি বলেন, এই জেলায় অনেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অধীনে চাকরি করেছি। কিন্তু আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করায় ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের মাধ্যমে তাকে জামিনে বের করার চেষ্টা করব। জামিন না হলে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’