বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়া প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিবিসি টেলিভিশনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রাখা সরকারের ওপর নির্ভর করছে।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, খালেদা জিয়ার সাজা প্রশ্নে তিনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যে হতাশা দেখা দিয়েছে বিএনপিতে। উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য কারণে সরকারের বিশেষ বিবেচনায় কারাগারের বাইরে বাসায় আবস্থান করছেন বিএনপি প্রধান।
বিএনপি আগে থেকেই হতাশায় নিমজ্জিত। ক্রমাগতভাবে দলটির সকল আশার প্রদীপ নিভে যোচ্ছে। এর একাধিক কারন রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দণ্ড মাথায় নিয়ে বিদেশে আত্মগোপনে। দলের দুই শীর্ষ নেতা কার্যত অনুপস্থিত। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা যে দলগুলো জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিবিসি টেলিভিশনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “জানালেন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেও দলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না দলে। জাতীয় স্থায়ী কমিটি যেটা আছে সেটা ঐক্যবদ্ধভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে আমরা দল পরিচালনা করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের দলের মধ্যে কোন প্রকার সংকট তৈরী হয়নি।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “২০ দলীয় জোটসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়েও। আমরা আন্দোলনের একটা অংশ হিসেবে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। সেখানে ২০ দল আলাদা করে ছিলো ও ঐক্যফ্রন্ট আলাদা করে ছিলো। কিছু কিছু দল বেরিয়ে গেছে। যারা বেরিয়ে গেছে তারা যেতেই পারেন, তাদের স্বাধীনতা আছে। ঐক্যফ্রন্ট থেকেও কাদের সিদ্দিকী সাহেব বের হয়ে গেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ধরনের সমস্যা থাকতে পারে, চলবে। আমরা এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোন দলকে বাদ দিয়ে দেবো, এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত আমাদের জোটের মধ্যে এখনো হয়নি।” স্থানীয় নির্বাচনে দলের করণীয় নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা ভাববো, আর অংশ নেবো না এটাও আমরা বলিনি।”
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরিবারই আবেদন করবে জানিয়ে সরকার তা বিবেচনা করবে বলেও আশা করেন মির্জা ফখরুল । তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ মামলাগুলো করা হয়েছে। যে কারণে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থাকবে। দল থেকে কোন সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি। এটা পরিবারের পক্ষ থেকে হলে হতে পারে।”