আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এ পর্যন্ত ছয়জনের ফাঁসী কার্যকর
দখিনের সময়
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১৮:৩৯ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন...
আলম রায়হান:
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল অগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৮ জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। এরমধ্যে একজন পালিয়ে পাকিস্তানে গেছে। একজন মৃত্যুদন্ড নিয়ে করাগারে থাকার পর সম্প্রতি আদালতের মাধ্যমে দন্ড থেকে অব্যাহতি পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আর রায়ে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৬ জনের।
এরা হচ্ছেন, জামায়াতের আব্দুল কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান মীর কাশেম আলী এবং বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে হয় ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্তরা অন্য নেতারা হলেন, অধ্যাপক গোলাম আজম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবুল কালাম আজাদ, এটিএম আজহারুল ইসলাম প্রমুখ। প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ৫৭ টি মামলার রায় দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর আপিল বিচারাধীন থাকায় কয়েকজন দণ্ডিত আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এর মধ্যে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযম অন্যতম। তার ৯০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিলো।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত গত এক বছরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১০ টি। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্তত ৩৭ টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানাগেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায়ও শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য বাংলাদেশে ২০১০ সালের মার্চে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে একই ট্রাইব্যুনাল। বেশ কয়েকবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী, আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট, রায়কে ঘিরে স্কাইপ বিতর্ক এবং সাক্ষীদের নিয়ে বিতর্ক নানা ঘটনার জন্ম হয়েছিল সেসময়। প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালের এই আইনটি মূলত বাংলাদেশ কোলাবরেটর (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার ১৯৭২ কে প্রতিস্থাপিত করেছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলার রায় দেয়া হয়েছে ১৭ নভেম্বর। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত গত বছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার আরেক আসামি রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে দেয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড।