বর্তমানে থাইরয়েড সমস্যা রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা গ্যাসট্রিকের মতোই সাধারণ এক শারীরিক জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নয়, কিশোর-কিশোরী ও শিশুরাও হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আয়োডিনের ঘাটতি বা হরমোন নিঃসরণের অনিয়ম থেকেই থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে মূলত দুই ধরনের থাইরয়েড রোগের কথা বলা হয়েছে— হাইপোথাইরয়ডিজম, যেখানে হরমোন নিঃসরণ কমে যায় এবং শরীরের ওজন বেড়ে যায়, ও হাইপারথাইরয়ডিজম, যেখানে হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায় ফলে ওজন কমে গিয়ে শীর্ণ ও রুক্ষ চেহারা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েডে আক্রান্ত হলে কিছু সাধারণ উপসর্গ দ্রুতই প্রকাশ পায়— যেমন গলা ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম লাগা, ঘন ঘন ঘাম হওয়া, বা পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেওয়া। ওজন হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, ত্বক শুষ্ক হওয়া, ঘন ঘন পায়খানা হওয়া, বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি এসবও সাধারণ লক্ষণ। দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মাসিক অনিয়ম, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বন্ধ্যত্ব বা গর্ভপাতের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা দীর্ঘদিন ডিপ্রেশনে ভোগেন এবং চোখ বা পেশির ব্যথার মতো জটিলতাও দেখা যায়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম।