ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া রুটে শীত এলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ঘন কুয়াশায় নিয়মিত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও, যাত্রী ভোগান্তি কমাতে স্থাপিত প্রায় ৫ কোটি টাকার ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট কার্যত কোনো কাজে আসছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এই রুটের ১০টি ফেরিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট স্থাপন করে। প্রতিটি লাইটের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছিল অর্ধকোটি টাকার বেশি। তবে ফেরি মাস্টার, চালক ও স্থানীয়দের দাবি—স্থাপনের অল্প সময়ের মধ্যেই লাইটগুলো বিকল হয়ে পড়ে এবং কখনোই কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়নি। চলতি শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে প্রায় ১২০ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ হাজারো যানবাহন আটকে পড়ে এবং রোগী পরিবহনে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কেউই স্পষ্ট দায় নিতে রাজি নয়। ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি কারিগরি বিভাগের আওতাধীন; আবার কারিগরি বিভাগের ভাষ্য—নিরাপত্তার স্বার্থেই কুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। নৌপথ বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ও কার্যকর প্রযুক্তির অভাবের পাশাপাশি সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহির সংকটই সমস্যার মূল কারণ। যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, অকার্যকর প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে প্রতিবছর শীত মৌসুমে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে অচলাবস্থা ও দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।