• ১১ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএনপির সুদূরপ্রসারী বিচক্ষণতা

দখিনের সময়
প্রকাশিত নভেম্বর ১৭, ২০২৪, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
বিএনপির সুদূরপ্রসারী বিচক্ষণতা
সংবাদটি শেয়ার করুন...
রাষ্ট্রপতি প্রশ্নে সিদ্ধান্তের মধ্যে বিএনপির সুদূরপ্রসারী বিচক্ষণতার প্রতিফলন ঘটে। পর্যবেক্ষরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ক্ষমতাসীনদের স্পষ্ট  মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএনপি। এরপর কোনো দলের নাম না নিয়েই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলটি। ২ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয়। দেশে অযথা ইস্যু তৈরি করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।’ এর পরদিন ৩ নভেম্বর ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্যই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানাতে চায়। কিন্তু জনগণ এটি হতে দেবে না।’ সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নানাভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি যেভাবেই বিশ্লেষণ করা হোক, খণ্ডিত নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা দেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না। এবার আর কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ নেই। এমন অঘটন ঘটলে দেশ-বিদেশে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ার বিপদের পাশাপাশি আরও একটি বিপদ আছে। একে মহাবিপদও বলা যায়। তা হচ্ছে, জাতিসংঘের সঙ্গে বিরাজমান একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। তিন বছর অন্তর জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের এ চুক্তি নবায়নের নির্ধারিত সময় হচ্ছে আগামী বছর ডিসেম্বর এবং চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান শর্তই হচ্ছে নির্বাচিত সরকার। তাহলে দাঁড়াচ্ছে এই, আগামী বছর ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। হয়তো এ বিবেচনায়ই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ১৮ মাস তথা দেড় বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলে রেখেছেন। সামগ্রিক বাস্তবতায় অভিজ্ঞ মহল বলছে, নির্বাচনকে আগামী বছরের সীমানা পার করার সুযোগ খুবই কম, নেই বললেই চলে। আর এর আগে অনেক কাজ করার আছে। অথচ কাজের বহরের তুলনায় সময় কম। হয়তো সামগ্রিক অবস্থার বিবেচনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ২ নভেম্বর যথার্থই বলেছেন, ‘আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। রাজনীতিবিদরাও উসখুস করছেন ক্ষমতায় যেতে!’ মানে সময় কম, কিন্তু কাজ ও চাপ অনেক।
বর্তমান সরকারের হাতে অনেক কাজের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-  প্রশাসনব্যবস্থা শুদ্ধ করা। কিন্তু এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে জটিল এক সমস্যা। কুকুরের লেজ সোজা করার মতোও ভাবা যেতে পারে। ১৫ বছর ধরে আমলাতন্ত্রকে যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতে উল্লুক আর চিত্রাহরিণ বাছাই করাটাই কঠিন। এমনকি এটা করতে গিয়ে ‘লোম বাছলে কম্বল উধাও’ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। এরপরও তো হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় নেই। এ কারণে ১৫ বছর ধরে আমলাতন্ত্রের মাজুল করার জন্য যেসব কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে বনসাই করে রাখা হয়েছে অথবা পত্রপাঠ বিদায় করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এ কমিটি সম্ভবত প্রত্যাশিত গতিতে কাজ করতে পারছে না।  অথবা রহস্যজনক কারণে কাজের গতিতে শামুককে পরাজিত করার ধ্যানজ্ঞান করে বসে আছে। এদিকে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।  অথচ যেকোনো বিষয়ে সময় একটি বড় ফ্যাক্টর। এটি কঠিন বাস্তবতা। আর ক্ষমতার প্রশ্নে এটি হিমালয়ের চেয়েও বড় বিষয়। ফলে যে কাজ ৫ আগস্টের বিজয়ের পর এক সপ্তাহের মধ্যে করা যেত, তা এখন করার বাসনা হতে পারে স্বপ্নবিলাস অথবা আত্মঘাতী। কারণ বলাই তো হয়, সময়ের এক ফোড় অসময়ের দশ ফোড়। আর লালনের বাণীই তো আছে- ‘সময় গেলে সাধন হবে না।’  দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়!
♦ লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
#বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত, ১০ নভেম্বর ২০২৪, শীরোনাম, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’