• ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হার্ড লাইনে সরকার, আলোচনার কৌশলগত অবস্থানে হেফাজত

দখিনের সময়
প্রকাশিত এপ্রিল ২০, ২০২১, ১৪:৩৬ অপরাহ্ণ
হার্ড লাইনে সরকার, আলোচনার কৌশলগত অবস্থানে হেফাজত

আলম রায়হান:

সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয়ার মতো শক্তি প্রদর্শন করেছে হেফাজতে ইসলাম, ২০১৩ সালে। সেই পরিস্থিতি সামাল দেয়াগেলেও কাবু করা যায়নি হেফাজতের আড়ালে থাকা রাজনৈতিক শক্তিকে। আহমেদ শফির মৃত্যুতে সংগঠনটি কিছুটা হীনবল হলেও রাজনীতির মাঠে দাপট তেমন কমেনি। যার প্রমান মিলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে। গত ২৬শে মার্চ থেকে তিন দিন ধরে হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে হেফাজতের নামে।

সামগ্রিক বিবেচনায় অনেকেই আশংকা করছেন, অপ্রতিরোধ্য হয়ে গেছে হেফাজতের আড়ালে ‘অন্ধকারের রাজনীতি।’ কিন্তু সাম্প্রতিক গ্রেফতার অভিযানে অনেকটাই কাবু হযে পড়েছে। সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিযানে হেফাজত নেতৃত্ব হাইড্রোলিক চাপে আছেন। ফলে নেতারা আলোচনার কাভারেজে থাকতে চাচ্ছেন। এবং এটি হচ্ছে ‘সুযোগের অপেক্ষায়’ হেফাজতের কৌশলগত অবস্থান।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে যে সহিংসতা হয়েছিল, সেই মামলাগুলোও এখন সামনে আনা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, পুরো পরিস্থিতি হেফাজতকে সংকটে ফেলেছে। গ্রেপ্তার যে অব্যাহত রাখা হয়েছে, তাতে কেন্দ্রীয় নেতা বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে গেছে। অনেকে তো ২০১৩ সালের মামলার আসামী বানাইছে। অনেককে বর্তমান মামলায় আসামী করা হয়েছে। সংকট হয়ে গেছে। এখন এগুলো আইনগতভাবে মোকাবেলা করার চেষ্টা চলতেছে বলেন নুরুল ইসলাম জেহাদী। তবে গভীর সংকট থেকে উত্তরনের এই হেফাজত নেতার আশাকে দুরাশা হিসেবেই দেখছেন বিশেষকরা। একই সূত্র বলছে, আলোচনার নামে হেফাজতকে এখন ছাড় দেয়া হলে সময়মতো তারা আবার শক্তির মহড়া দেবে। এক্ষেত্রে ঈদের পর সময়টাকে হাই টাইম হিসেবে দেখা হচ্ছে। একটি সূত্রমতে, লকডাউন শিথিল হবার পর মাদ্রাসা গুলো খুললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবার আশংকা রয়েছে।

সূত্রমতে, এ হেফাজতে ইসলামের নেতারা এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছেন। একসময় হেফাজতের নেতাদের কাছে যেতেন সরকারের গুরুত্বপর্ণ মন্ত্রীরা। এখন সেই নেতারা মন্ত্রীমুখী হয়েছেন। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাও আবার মধ্যরাতে।

হেফাজত নেতাদের অনেকে বলেছেন, তাদের সংগঠনের নেতৃত্বের মুরব্বী এবং অরাজনৈতিক নেতারা সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তারা সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে সূত্র বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে সহিংসতার ঘটনাগুলোর ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে কোন ছাড় না দেয়ার কথা বলা হচ্ছে।

হেফাজতের নেতৃত্ব আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বললেও সংগঠনটির এখনকার নেতৃত্ব নিয়েই সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতিবাচক মনোভাব বিভিন্ন সময় প্রকাশ পেয়েছে। সরকার বিরোধী বিভিন্ন ইসলামপন্থী দলের নেতারা হেফাজতের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ। তবে হেফাজতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এ পর্যন্ত তাদের সংগঠনের মামুনুল হকসহ নয় জন কেন্দ্রীয় নেতা এবং মাঠপর্যায়ে প্রায় দু’শো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হেফাজতের নেতারা বলছেন, মুরব্বী এবং অরাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ব্যাপারে। তবে এবার হেফাজতের প্রত্যাশা এবার কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে সংশয় আছে পর্যবেক্ষক মহলে। এর আলামত অনেরেকর কাছেই স্পষ্ট হয়েছে। ১৯ এপ্রিল মধ্যরাতে হেফাজত নেতাদের বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাতে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তারা সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, এটি শিডিউল কোনও বৈঠক না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ‘সাক্ষাতে হেফাজত নেতাদের বলেছেন তাদের যেন ঢালাওভাবে সবাইকে ধরপাকড় করা না হয়। জবাবে তাদের বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের মনোভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। আবার যার প্রতিফলন ঘটেছে সিআইডি প্রধানের কথায়। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সিআইডির মালিবাগস্থ প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের আইনের আওতায় আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে ২৩ মামলার তদন্তের কথা  জানান সিআইডি প্রধান।