Home বিশেষ প্রতিবেদন মামুনুল হকের নারী কাহনে হেফাজতের সাম্রাজ্যে ধ্বস!

মামুনুল হকের নারী কাহনে হেফাজতের সাম্রাজ্যে ধ্বস!

আলম রায়হান:

ফরাসী গল্প। একজন বিচারক ছিলেন। যিনি প্রতিটি মামলায় প্রথমেই ঘটনার পিছনে নারীকে খোঁজার আদেশ দিতেন। প্রতিটি মামলায় এটিই ছিলো তাঁর প্রথম কাজ। একবার মধ্যরাতে নির্জন রাস্তায় গাড়ি  র্দুঘটনার মামলা এলো এই বিচারকের আদালতে। এ ঘটনায় গাড়ীটি দুমড়েমুচড়ে মোয়ার মতো হয়ে গিয়েছিলো। একমাত্র আরোহীর ভবলীলা সাঙ্গ হয় ঘটনাস্থলেই। এ বারও বিচারক যথারীতি পিছনের নারী খোঁজার আদেশ দিয়ে দিলেন প্রথমেই।

বিচারকের এবারের আদেশ নিয়ে অনেক হাসিতামাশা হলো। বলা হলো, প্রতিটি ঘটনার পিছনে নারী খোঁজার বাতিকগ্রস্থ বিচারক এবার ধরা! কিন্তু শেষতক বিচারকই সঠিক প্রমানিত হয়েছেন। দফায় দফায় তদন্তে দেখাগেলো, গভীর রাতে সড়কের পাশে দাড়িয়ে স্বল্প বসনা এক নারী খদ্দেরের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করছিলেন, নানান ভঙ্গীতে। তার দিকে কামাতুর দৃষ্ঠিপাত করতে গিয়েই নিজের জীবনের জবনীকাপাত করেছেন গাড়ীর একমাত্র আরোহী।

নারীর নানানমুখি ক্ষমতার মধ্যে বিধ্বংসী দিক বুঝাতে এই গল্পটি উল্লেখ করে থাকেন অনেকে। আর এই গল্পটি অনেকটাই ফলেগেছে সম্প্রতি হেফাজতের বেলায়। মাওলানা মামুনুর হকের নারী কাহনে। ধ্বসেগেছে হেফাজতের বুলন্দ আওয়াজের ভিত্তি। এ সংগঠনের কর্মীরা লজ্জিত, নেতারা দ্বিধাবিভক্ত-বিভ্রান্ত-বিধ্বস্ত! উল্লেখিত নারী কাহন সৃষ্টি না হলে হেফাজত নেতাদেরকে এভাবে লেজেখেলা সরকারের পক্ষে কতটা সম্ভব হতো তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর সংশয় রয়েছে।

রিসোর্টে একজন নারীকে নিয়ে মামুনুল হকের অবস্থানের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সহিংসতা এবং মামুনুল হকের দায় নেয়া-নানেয়া নিয়ে হেফাজতের ভিতরেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার একটি গ্রুপ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো মামুনুল হকের নারী কাহন আড়াল করার জন্য সৃষ্টির করেছেন আরাজগক পরিস্থিতি। কিন্তু এই আচরণ দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি,  সাড়া দেয়নি জনগণ। আর মুখে যাই বলুক, সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মানসিক  জোর পাচ্ছেন না, ইয়া আলী বলে মাঠে নামতে। বরং সংগঠনের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি চরমে পৌছেছে। পাশাপাশি সরকারকে হার্ড লাইনে যাবার মোক্ষম সুযোগ করে দিয়েছে মামমুল হকের নারী কাহন। এখন মামলা-গ্রেফতারে লেজেগোবরে অবস্থা হেফাজত নেতাদের।

শুধু তাই নয়। মামুনুল হকের নারী কাহন এবং এ থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে হেফাজতের নায়েবে আমীরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আব্দুল্লাহ মো: হাসান। তিনি বলেছেন, সংগঠনটির কিছু নেতার ভুলের কারণে এখনকার সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালাও পোড়াও বা সহিংসতা সমর্থন না করার কারণে তিনি হেফাজত থেকে পদত্যাগ করেছেন। হরতাল-জ্বালাও-পোড়াও, এগুলোসহ সহিংসতা হয়েছে। এ কাজগুলো আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ এবং সমর্থন করি না। তিনি আরও বলেছেন, কিছু হুজুরদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আজকে কিন্তু গোটা আলেম সমাজ এবং গোটা কওমী মাদ্রাসার ওপর একটা চাপ তৈরি হয়েছে।

শুধু নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মো: হাসানের পদত্যাগ নয়, মোলায়েম সুরে কথা বলছেন জুনায়েদ বাবুনগরীও। তিনি এখন বলছেন, ইসলাম কখনই জ্বালাও পোড়াও সমর্থন করে না। হেফাজত আমির ভাঙচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে নামানো হেফাজতে ইসলামের কাজ নয়। অথচ এই  বাবুনগরীই ছিলেন ২০১৩ সালের ঘটনার অন্যতম কুশিলব। তিনি সে সময় বিরোধী দলীয় নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও দেখা করেছিলেন, ‘সরকার ফেলে দেবার’ পরবর্তী পরিস্থিনি নেয়া করনীয় বিষয়ে রূপরেখা নিয়ে। যদিও ২০ এপ্রিল হেফাজতের পক্ষ থেকে  এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাবুনগরীর কোনোদিন দেখা হয়নি।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাবুনগরীর দেখা হয়েছে কিনা সেটি এখন প্রমান সাপেক্ষ বিষয়। বিন্তু সেদিনের তান্ডবের ঘটনায় বিএনপির স্পষ্ট সমর্থন ছিলো। সেই সময়ের মেয়র সাদেক হোসেন খোনা প্রকাশে মঞ্চে গিয়েছিলেন বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে। জেনালে এরশাদও লেছে খেলার চেষ্টা কম করেননি। সেদিনের তান্ডবের নেপথ্য উদ্দেশ্য সফল হতে হতে ব্যর্থ হয়ে যায়। কিন্তু হেফাজত মোটেই হীনবল হয়নি। সেই হেঢাজত এখন প্রায় দিশে হারা। নেপথ্যে কেবল এক নারী। এক সময় বরিশালের ঘরে ঘরে এক ধরনের হতের লেখা শোভা পেতো। তাতে লেখা থাকতো, ‘ভাই বড় রক্তের বাধন, পর হয় নারীর কারণ।’ গ্রামির এই প্রবচন কতটা বাস্তব তা নিয়ে বিস্তর দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু এটা বাস্তব, হেফাজতী ভাইদের মধ্যে যে ‘পরপর’ ভাব সৃষ্টি হয়েছে তার প্রধান কারণ হচ্ছে, মামুনুল হকের নারী!

আজকের নাজুক হেফাজত মাত্র কয়েকছর আগে ২০১৩ সালে, সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো। সে সময় সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত এবং আইন-শৃংখলাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারনে বড় রকমের অরাজক পরিস্থিতি থেকে দেশ ও সরকার রক্ষা পেয়েছে। এখানেই শেষ হয়নি হেফাজতের দাপট। এ সংগঠনের নেতাদের তুষ্ট করার জন্য সরকারের মন্ত্রী-নেতারাও প্রান্তকর চেষ্টা করেছেন। এতোটাই শক্তিধর ছিলো হেফাজত! শুধু জাতীয় পেক্ষাপটে নয়, আঞ্চলিকভাবেও শক্তিশালী ছিলো হেফাজত। যার প্রমান পেয়েছেন বরিশালবাসীও। হেফাজতের কারনেই শওকত হোসেন হিরনের মতো জনপ্রিয় নেতা ও সফল সিটিং মেয়র হেরেছেন আহসান হাবিব কামালের মতো গ্লামারহীন প্রার্থীর কাছে।

হেফাজতে ইসলাম এতোই ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী ছিলো জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে। কিন্তু মামুনুল হকের নারী কাহন পরিস্থিতি উল্টে দিয়েছে। এক সময় মন্ত্রীরা ছুটতেন হেফাজত নেতাদের দ্বারে। এখন হেফাজত নেতারা ধর্ণা দিচ্ছেন মন্ত্রীর দুয়ারে। তাও আবার মধ্য রাতে। দাবী সেই পুরনো প্রবচনের মতো, “ভিক্ষা চাই না কুত্তা ঠেকাও!”

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

এইচএসসি পাসেই চাকরি দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল

দখিনের সময় ডেস্ক: ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটার অপারেটর পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১০ জুলাই থেকেই আবেদন...

এপেক্সে নিয়োগ, পাবেন পিক অ্যান্ড ড্রপসহ অনেক সুবিধা

দখিনের সময় ডেস্ক: এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ই-কমার্স (মার্কেটিং) বিভাগ এক্সিকিউটিভ পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ০৯ জুলাই থেকেই...

বেশি এমএএইচ মানেই কি ভালো ব্যাটারি? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

দখিনের সময় ডেস্ক: বাজার থেকে নতুন ফোন কেনার সময় একজন ক্রেতা পরীক্ষা করে থাকেন তার ফোনে কত এমএএইচের ব্যাটারি ইনস্টল করা আছে। সাধারণত বেশি এমএএইচের...

রাতে আম খেলে কী হয়?

দখিনের সময় ডেস্ক: এখন আমের সময়। বাহারি নাম ও স্বাদের আম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। সেসব আমের স্বাদ না নিলে কি হয়! আম-দুধ দিয়ে ভাত খাওয়া...

Recent Comments