• ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই কূলই হারালেন তৈমূর?

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ১৩:৩৫ অপরাহ্ণ
দুই কূলই হারালেন তৈমূর?

দখিনের সময় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান তিনি। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তার চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা আহ্বায়ক পদ কেড়ে নেয় বিএনপি। তৈমূরকে বহিষ্কার করা হয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও কেন্দ্রীয় পদ থেকেও। সব মিলিয়ে ফল ঘোষণার পর থেকে দলের অনেক নেতাকর্মীই বলছেন, ‘তৈমূর একূল-ওকূল দুই কূলই হারাল।’

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের অনেকেই মনে করেন, তৈমূরের অনুসারীরা বিএনপির রাজনীতিতেও বেকায়দায় পড়তে পারেন। কতদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে আছেন, এমন প্রশ্নে তৈমূর আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতিতে বহুদিন থেকে আছি। হিসাব-কিতাব করে দেখতে হবে, তাও ৩০ বছর হবে।’

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হওয়ার পরও বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার দরকার কি? রাজনীতি করতে পদ-পদবি লাগে না। দল ইচ্ছা করলে রাখতে পারে, আবার বিদায় করেও দিতে পারে।’ আপনি বিএনপির রাজনীতি করতে চান কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আগে দেখি দল কী করে, তারপরে বলব।’

২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হিসেবে হেরে যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি এবারও নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, তৈমূর আলমের সঙ্গে তার মেয়ে ব্যারিস্টার মারিয়াম খন্দকারের বিএনপির রাজনীতিও হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মারিয়াম দলের নেতাকর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। তবে প্রকাশ্যে তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে কথা না বললেও দলের অনেকেই মনে করেন, ব্যক্তিগতভাবেও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপরীতে তৈমূর আলম খন্দকার তুলনামূলক প্রার্থী হিসেবে দুর্বল ছিল।

আবার তৈমূরের নামের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের প্রার্থীর তকমা লাগায় দলীয় অনেক সমর্থকই তাকে ভোট দেয়নি। এ ছাড়া তৈমূর আলমের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অনেক নেতাকর্মীর বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান তার শিবিরে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এই অবস্থায়ও দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলে তৈমূরের পক্ষে ফল আসতে পারত।