১৫ আগস্ট ‘গণতন্ত্র দিবস’ পালন করতো জাতীয় পার্টি
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২০, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতায় থাকাকালে সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের রাজনৈতিক মুখোশ জাতীয় পার্টি ১৫ আগস্ট ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে পালন করেছে। এমনই এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন এরশাদের উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নূরুল ইসলাম। তার বামে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও অধ্যাপক ডা. মতিন।
ছবি: শফি আহমেদের ফেসবুক থেকে সংগ্রহকৃত

আলম রায়হান ॥
বিশ্বের নির্মমতম ঘটনার অন্যতম, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ডের আগে-পরে যেমন মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে, তেমনই চালানো হয়েছে কিছু সুক্ষ্ম কৌশলী প্রচারণা। এ অপপ্রচারণার প্রধান হচ্ছে, “কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা বঙ্গবঙ্গন্ধুকে হত্যা করেছে।”
বাস্তবতা হচ্ছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড কেবল কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার অপকর্ম নয়। এর পেছনে ছিলো দেশী-বিদেশী গভীর ষড়যন্ত্রের পরিকল্পিত ব্লু-প্রিন্ট। যে কারণে হিমালয়ের মতো নেতা ও জাতির পিতাকে হত্যা করেও খুনীচক্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর পরবর্তীতে মূল কুশিলবরা সামনে এসেছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মুখোশ পরে। এখভাবেই জাতি কে ধোকা দেয়া হয়েছে।
সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ার স্ত্রী বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বহু বছর ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন পালন করেছেন। এদিকে আর এক সমারিক শাসক জেনারেলর এরশাদ দীর্ঘ নয় বছর ক্ষমতায় থাকাকালে ১৫ আগষ্ট ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে পালন করতেন। অনেকেই মনে করেন, ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ও বেনিফিশারীদের প্রতিভূত হচ্ছেন জিয়া-খালেদা-এরশাদ। আর এ ষড়যন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে। এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। যার মধ্যে ভয়াবহতম হচ্ছে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা।
অনেকেই মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কেন্দ্রিক ষড়যন্ত্রের গভীরে যাওয়া হয়নি বলেই খুনী চক্রকে প্রকৃত অর্থে দমন করা এখনো সম্ভব হয়নি। কাজেই এখনই সময়, নেপথ্য কুশিলবদের মুখোশ উম্মোচন করা।
Post Views: ১৯২