দখিনের সময় ডেস্ক:
সম্প্রতি ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের মন্তব্যের পর পুলিশের শীর্ষ পদ আইজিপি হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন এখন সর্বদা চলছে। জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে ফেরার পর আইজিপি পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ক্রসফায়ার’ নিয়ে বর্তমান আইজিপির বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে প্রকাশ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পুলিশ মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বাহিনীর সবাই কমবেশি বিব্রত।আইজিপি এমন মন্তব্য করলে সেটি শুধু সরকারকে বিব্রতই করে না, বাহিনীর পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠার সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ওই মন্তব্যকে সরকারের জন্য ‘বিব্রতকর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইজিপির এমন মন্তব্য ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি এবং এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
পুলিশ প্রধান আলী হোসেনে ফকিরের সাম্প্রতিক ওই মন্তব্যের পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, রূপক অর্থে পুলিশ মহাপরিদর্শক ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন। এছাড়া সাংবাদিকরা মাদকের টাকার ভাগ পায়, তার এমন মন্তব্য ছিল অসাবধানতাবশত। বিবৃতি দিয়ে এই কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গায় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না। পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া হয়, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। এ সময় তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকরা মাদকের টাকার ভাগ না পেলে লেখেন ‘পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে।‘
ক্রসফায়ার নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। সমালোচনার মুখে ওই রাতেই এর একটি ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে তিনি রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন।