• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিক্সন বললেন, কিছুই করার নেই!

দখিনের সময়
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১২, ২০২০, ০৯:২২ পূর্বাহ্ণ
নিক্সন বললেন, কিছুই করার নেই!

স্টাফ রিপোর্টার:
যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের কিছুই করার নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ১২ ডিসেম্বর জাতিসঙ্গের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের আহ্বান করে।
নিরাপত্তা পরিষদের এ অধিবেশনে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার আগেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্তির দোড়গোড়ায় পৌছে যায়। ফলে এ অধিবেশনের কোনো অর্থ ছিল না। সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সমর্থন প্রদান করে এবং মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনী সাহায্যে এগিয়ে আসে। সোভিয়েত রাশিয়া ভারতকে আশ্বাস দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র বা চীন যুদ্ধে সম্পৃক্ত হলে তারা এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতিনিধি ভোরেন্টসভকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘১২ ডিসেম্বর মধ্যাহ্নের আগে ভারতকে অবশ্যই যুদ্ধ বিরতি মেনে নিতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ কিন্তু এই হুশিযারী কোন কাজে আসেনি। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর শেষ লড়াইয়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও রণাঙ্গনে তাদের পশ্চাদপসরণের ধারা অব্যাহত থাকে।

২৫-২৬ এপ্রিল মৃতদেহ ছাড়া কেউ
ছিল না চরবাড়িয়া ইউনিয়নে!

স্টাফ রিপোর্টার:
একাত্তরের ২৫ এপ্রিল সারাদিন চরবাড়িয়ায় হত্যালীলা চলে। বর্বর পাকবাহিনী বাড়িবাড়ি ঢুকে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সবাইকে হত্যা করে। ৯০ বছরের বৃদ্ধাকেও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়েখুচিয়ে হত্যা করেছে। ট্রেঞ্চ ও সদ্য খনন করা পুকুরে যারা আশ্রয নিয়েছিলো তাদেরকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়। ২৫-২৬ এপ্রিল রাতে মৃতদেহ ব্যতীত কেউ ছিল না চরবাড়িয়া ইউনিয়নে।
পাকবাহিনী আক্রমণ প্রতিরোধে মেজর জলিলের রণকৌশল অনুযায়ীী বরিশাল শহরতলিতে অবস্থিত চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মহাবাজ বিদ্যালয়ে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় ২৫০ মুক্তিযোদ্ধা এ ক্যাম্পে অবস্থান করে। ক্যাম্প পরিচালনায় ছিলেন ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন মেহেদী আলী ইমাম, সুবেদার পঞ্চম আলী।
সায়েস্তাবাদ হাইস্কুলে ট্রেনিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন আনসার কমান্ডার আবদুল ওয়াাজেদ হাওলাদার। আক্রমণ প্রতিরোধে আরও ছিল ৫ মাইল উত্তর-পূর্ব কোণে জুনাহার ঘাঁটি। ২৫ এপ্রিল দুপুরে জুনাহার ঘাঁটি আক্রমণের অল্প সময়ের মধ্যে পাকবাহিনী চরবাড়িয়াা আক্রমণের জন্য দুটি হেলিকপ্টারে ছত্রী সেনা আনে। জুনাহারে আক্রমণের আধঘন্টার মধ্যে তালতলীর পূর্ব পাশে মাঠে ছত্রী সেনা নামানো হয়। এবার পাকবাহিনী নৌ, বিমান ও স্থল বাহিনীর সমন্বয়ে বরিশাল আক্রমণ করতে থাকে। তালতলীর পশ্চিমে গানবোট নোঙর করা হয়। তারা গানবোট থেকে ভারী অস্ত্র নামিয়ে আনে। এ সময় প্রচন্ডভাবে গুলিবর্ষণ করা হয়। কামানের গুলি ৫/৬ মাইল দূরে পড়তে থাকে। পাকসেনারা যাকে সামনে পায় তাকেই গুলি করে হত্যা করে। পাকবাহিনী মহাবাজে নাজিরবাড়ির মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ করে। ৩ ঘন্টা যুদ্ধ করে মুক্তিবাহিনী পিছু হটে যায়। পাকসেনারা চরবাড়িয়া, কাগাশুরা, সাপানিয়া, পুরানপাড়ায় গণহত্যা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বরিশাল শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। চরবাড়িয়া ইউনিয়ন জনশূন্য হয়ে পড়ে। বরিশাল শহর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেয়।