• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবসময় বদলাতে থাকে করোনাভাইরাস, দুশ্চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

দখিনের সময়
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৪, ২০২০, ০৮:২২ পূর্বাহ্ণ
সবসময় বদলাতে থাকে  করোনাভাইরাস, দুশ্চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

দখিনের সময় ডেক্স:

সব ভাইরাসেরই মিউটেশন হয়, অর্থাৎ এটা নিজেকে নিজে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে থাকে। সাধারণত দেখা যায় – প্রতি এক মাস সময়কালে একটি বা দুটি পরিবর্তন হয়ে থাকে। অনেক সময়ই এই মিউটেশনগুলো ভাইরাসের আচরণের ওপর তেমন কোন প্রভাব ফেলে না, বা ফেললেও তা হয় খুবই নগণ্য। চীনে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে  প্রথম যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়েছিল – সেটা এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ বার পরিবর্তিত হয়েছে। খবর সূত্র: বিবিসি।

দু-একটি ক্ষেত্রে ভাইরাসটি এমন কিছু মিউটেশন ঘটিয়ে ফেলে – যা তাদের টিকে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির ক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরকম মিউটেশন বহনকারী ভাইরাস তখন প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটাতে থাকে। এটিই বিজ্ঞানীদের বিশেষ দুশ্চিন্তার কারণ। এই নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে ১৪টি মিউটেশন চিহ্নিত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাসের যে মিউটেশনটি নিয়ে এখন সারা দুনিয়ায় হৈচৈ চলছে তার নাম B.1.1.7 অথবা VUI-202012/01 – এবং এটির সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অন্য প্রজাতিগুলোর চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি। ব্রিটেনে এটি এখন ছড়াচ্ছে অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে। করোনাভাইরাসের গায়ে যে কাঁটার মত স্পাইকগুলো থাকে – এ মিউটেশনের ফলে সেগুলোর প্রোটিনে এমন কিছু পরিবর্তন হচ্ছে যাতে এটা আরো সহজে মানুষের দেহকোষে ঢুকে পড়তে পারছে।

ভাইরাসের মধ্যে প্রোটিন তৈরির উপাদান হচ্ছে এ্যামিনো এসিড – এবং তাতে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসছে এই মিউটেশন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হয়তো এর কোন কোনোটি ভাইরাসটির দ্রুত ছড়াতে পারার ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে। এসব মিউটেশনের কথা বৈজ্ঞানিকদের আগেও জানা ছিল, কিন্তু এত বিস্তারিত জানা ছিল না।

করোনাভাইরাসের নতুন  প্রকারটি চিহ্নিত হয়েছে যুক্তরাজ্যে – কিন্ত এমন হতেই পারে যে তার অনেক আগে থেকেই এটি যুক্তরাজ্যের বাইরে কোথাও ছড়াচ্ছিল।  হয়তো এটির উৎপত্তিও যুক্তরাজ্যের বাইরে – এমন সম্ভাবনাও আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি চিহ্নিত হয়েছে যুক্তরাজ্যে কারণ সেখানে করোনাভাইরাসের ওপর নজরদারির যে বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো আছে তা অত্যন্ত শক্তিশালী।