• ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভরা পূর্ণিমায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা, হতে পারে ৮/১০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২১, ১৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ভরা পূর্ণিমায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা, হতে পারে ৮/১০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস

দখিনের সময় ডেস্ক:

ত্রিশ বছর পর আবারও ভরা পূর্ণিমায় ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাকতালীয়ভাবে বাড়তে পারে ক্ষয়ক্ষতি। ফলে উদ্বিগ্ন আবহাওয়াবিদরা। বঙ্গপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আগামীকাল বুধবার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। সেদিনই ২০২১ সালের প্রথম ব্লাড মুন দেখা যাবে। পূর্ণিমায় এমনিতেই সাগরে জোয়ারের উচ্চতা অন্য সময়ের থেকে বেশি থাকে। ফলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এবারের ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হতে পারে।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ভরা পূর্ণিমায় ‘বিওবি-১’ নামে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে এক ভয়াল ঘূর্ণিঝড়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় উপকূলীয় এলাকা। প্রাণ হারান দেড় লাখের মতো মানুষ। সর্বস্ব হারায় ১ কোটি উপকূলীয় বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভরা কটাল অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। এই সময়ে সাধারণ সময়ের চেয়ে ৮/১০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকে।

আমেরিকার নৌ-বাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রতিষ্ঠান ঔড়রহঃ ঞুঢ়যড়ড়হ ডধৎহরহম ঈবহঃবৎ জানাচ্ছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভয়াল সুপার সাইক্লোন ইয়াস (ুধধং) এ পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে সাগর ফুঁসছে। ইয়াস ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে দ্রুত উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর এরই মধ্যে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ইয়াসের অভিমুখ উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল নির্দেশ করলেও বুধবার বাংলাদেশের উপকূলেও আছড়ে পড়তে পারে। তবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পূর্ণিমার ভরা কোটালে উচ্চ জলোচ্ছ্বাস এবং তুমুল ঝড়ো বৃষ্টিপাত হবে।