• ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাইভে এসে কাঁদলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

দখিনের সময়
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০২১, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
লাইভে এসে কাঁদলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

দখিনের সময় ডেস্ক:

ফেসবুকে হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেছেন, আমি সরকারের জন্য একটা চ্যানেল চালাচ্ছি। সেটা জয়যাত্রা টেলিভিশন। সেই চ্যানেল আমি ভতুর্কি দিয়ে চালাচ্ছি প্রায় চার বছর যাবৎ। আমি চ্যানেলের বাইরে কোনো কাজ করতে পারি না, এত মনোযোগ দিতে হয় আমাকে। জয়যাত্রা ছোট হোক, চ্যানেল তো। আমি তো চালাচ্ছি সরকারের জন্য ।

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহিলা আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর । এর এক দিন পর সোমবার(২৭জুলাই) ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ও লালন করে চলছি। এ বি এম রিয়াজুল কবির কায়সার গতকালকে বলেছিল, হেলেনা জাহাঙ্গীর আসছে, আমি চলে যাব। আমি বললাম ভাই, আপনি থাকেন আমি চলে যাই, আমি বের হয়ে গেছি। কেন? আজকেও সেই অবস্থা বলছেন। হ্যাঁ, ৭১ টিভিতে একটা প্রোগ্রাম ছিল সেই প্রোগ্রামে তিনি বলছেন, উনার নাম কামাল ভাই। উনাকে আমি বললাম, ভাই, আপনি আমাকে এভাবে অপমান করতে পারেন না। তারপরও পুরুষরা এত খারাপ কেন, সব পুরুষ না, কিছু কিছু পুরুষ। এত খারাপ মেয়েদের পেছনে লেগে থাকে। লজ্জা করে না আপনাদের, মেয়েদের পেছনে লেগে থাকতে। মেয়েরা না মায়ের জাতি। মা না থাকলে আপনার জন্ম হতেন না। সেই মেয়েদেরকে আপনারা অপমান করেন, লেলিয়ে দেন; হেলেনা জাহাঙ্গীরের পেছনে লাগো।’

আলোচিত এই নারী ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আছেন, এমপিরা আছেন। আপনাদের যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে ছাতার ভেতরে আগলিয়ে রাখে, আপনাদের যদি পরামর্শ দেয়, আপনাদের পরামর্শ শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আপনারা আমাদের পরামর্শ দেবেন। আমাদের কাজ করার সুযোগ দেবেন। আপনারা আমাদের অপমান করেন, অ্যারেস্ট করার হুকুম দেন। আপনি কি অ্যারেস্ট করার হুকুম দিতে পারেন। আপনি কি বড় জন? আপনি আমাকে অ্যারেস্ট করার ইয়া বলতে পারেন… পারেন না কখনোই।’

নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তার নাম আসে। সে কারণেই তাকে উপকমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন বলেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য গত মাসেই তাকে (হেলেনা জাহাঙ্গীর) কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই চিঠির জবাব দেননি তিনি। এ জন্য নির্দিষ্ট সময় পর এটা স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহতি হয়ে গেছে। কাজেই বলা যায়, বর্তমানে তিনি ওই কমিটিতে আর নেই।

এর আগে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে সাইফুল ইসলাম ইমনের ফোন নম্বর দিয়ে পদ প্রত্যাশীদের যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই পোস্টারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।