• ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দখলে দূষণে মরে যাচ্ছে কীর্তনখোলা নদী

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৭, ২০২১, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ণ
দখলে দূষণে মরে যাচ্ছে কীর্তনখোলা নদী

আলম রায়হান:

দখলে দূষণে মরে যাচ্ছে কীর্তনখোলা নদী। বরিশাল নদীবন্দর এলাকা এরমধ্যেই বুড়িগঙ্গার রূপ ধারন করেছে কীর্তনখোলা। এদিকে বেলতলা খেয়াঘাট থেকে বান্দ রোড পর্যন্ত একাধিক স্থানে দখলের ফলে কোনকোন স্থানে খালের রূপ ধারণ করেছে কীর্তনখোলা। প্রভাশালীদের দখল এবং লঞ্চ মালিকদের দুষণ- যেনো পাল্লা দিয়ে চলছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই!

দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ লঞ্চগুলো থেকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে সরাসরি ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন বর্জ্য। এর ফলে নদীর পানি দূষিত হবার পাশাপাশি তলদেশে জমেছে আবর্জনার স্তুপ। নাব্য সংকট কাটাতে পলি অপসরণ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ড্রেজিং কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বালুর পরিবর্তে ড্রেজার মেশিনে উঠে আসছে পলিথিন, বস্তা, গাড়ির টায়ারসহ নানান ধরণের আবর্জনা।

সস্প্রতি ড্রেজিং মেশিনের কাটারের সঙ্গে বারবার পলিথিনসহ প্লাস্টিক সামগ্রী আটকে যাওয়ায় ৫-৬ ঘণ্টার বেশি খনন কাজ চালানো সম্ভব হয় না। নদীতে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য লঞ্চ কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর থেকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না।

লঞ্চের যাত্রী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন সামগ্রী লঞ্চে কিংবা পল্টুনে বসেই সরাসরি নদীতে ফেলছে। বরিশাল টার্মিনালে ভেরার পর ঝাড়– দিয়ে লঞ্চগুলোর আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনায় রয়েছে প্লাস্টিক-পলিথিন জাতীয় অপচনশীল দ্রব্য যা ৫০০ বছরেও নষ্ট হবে না। এ আবর্জনা পানিতে তলিয়ে নদীবন্দর সংলগ্ন এলাকায় আলাদা একটি স্তর তৈরি করছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে অপর দিকে নদীর নাব্য হ্রাসেও ভূমিকা রাখছে। সেই সঙ্গে মাছ ও জলজ জীব বৈচিত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শীতের সময় নদীবন্দর ও আশপাশের এলাকায় পানি কমে গেলে দৃশ্যমান হয়, মাটিতে পলিথিন আটকে থাকার বিষয়টি। আর তাতে পানি ও ময়লা আটকে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছ।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা খনন কার্যক্রম চালাতে সক্ষম। বরিশাল নদীবন্দর এলাকাতে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট এক নাগারে ড্রেজিং করেছি। কিন্তু সস্প্রতি নদীবন্দরে অহেতুক লঞ্চগুলোকে নোঙর করে রাখা এবং ড্রেজিং মেশিনের কাটারের সঙ্গে বারবার পলিথিনসহ প্লাস্টিক সামগ্রী আটকে যায়। ফলে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি খনন কাজ চালানো সম্ভব হয় না।