• ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিসিবি’র পেঁয়াজ ২০ টাকা: তবে উদ্ভট শর্ত প্রযোজ্য!

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ২, ২০২১, ২২:৪৪ অপরাহ্ণ
টিসিবি’র পেঁয়াজ ২০ টাকা: তবে উদ্ভট শর্ত প্রযোজ্য!

কাজী হাফিজ ও জুবায়ের আল মামুন ॥

টিসিবি’র পেয়াজ প্রতি কেজি ২০ টাকা। তবুও ক্রেতা মিলছে না! কিন্তু এই সেদিনও বরিশালে টিসিবির পণ্য ক্রয় করার জন্য প্রচুর ভীড় হতো। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য কেনান জন্য করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করেও গাদাগাদী করে মানুষ লাইনে দাড়াতো। কিন্তু টিসিবির সেই পেঁয়াজ এখন অবিক্রিত অবস্থায় বস্তাবন্দী হয়ে পড়ে থাকে গাড়িতেই। টিসিবি’র পেঁয়াজের ব্যাপারে ক্রেতাদের আগ্রহ নেই এখন আর!
বরিশালে টিসিবি’র পেঁয়াজের ব্যাপারে ক্রেতাদের অনাগ্রহের প্রধান কারণ হচ্ছে, গ্রামীণ ফোনের মতো ‘শর্ত প্রযোজ্য’ কৌশল। কিন্তু টিসিবির এই কৌশল খুবই উদ্ভট এবং অকার্যকর। ফলে সাফল্যের চেয়ে সংস্থাটি কুফল পাচ্ছে বেশি। টিসিবির শর্ত হচ্ছে, এক সঙ্গে দশ কেজি পিয়াজ কিনতে হবে। শুধু তাই নয় এর সঙ্গে সয়াবিন তেলও কিনতে হবে। অর্থাৎ যদি কেউ পেঁয়াজ কিনতে চায় তাহলে তাকে নূন্যতম দশ কেজি পেঁয়াজ কিনতে হবে। আবার পেঁয়াজের সাথে চিনি এবং সয়াবিন তেলও ক্রয় করতে হবে।

প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত পিয়াজ ক্রয় করার বাধ্যবাধকতা এবং সঙ্গে অন্য পণ্য ক্রয় করার উদ্ভট শর্ত ক্রেতারা সঙ্গত কারণেই মানতে চাচ্ছেন না। ফলে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রয়কারীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত জনসাধারনের বাকবিতন্ডা হচ্ছে। এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে একাধিক।

পেঁয়াজের সঙ্গে অন্য পণ্য ক্রয়ের শর্ত প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টিসিবি’র বরিশাল বিভাগের প্রধান শাহিদুর ইসলাম বলেন, এ রকম বাধ্যবাধকতা টিসিবি’র পক্ষ থেকে আরোপ করা হয়নি। তা ছাড়া এটা ভোক্তা অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিক্রির জন্য টিসিবির ৩০ হাজার টন পিয়াজ মজুদ আছে। এর মধ্যে বরিশালের কোটায় রয়েছে ২ হাজার টন। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, চাহিদা কমে যাওয়ায় পিয়াজ নিয়ে টিসিবি সংকটে পড়তে পারে। যদিও বিক্রির পরিসংখ্যানে বরিশাল চতুর্থ অবস্থানে আছে।