• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ুর বিরুপ পরিবর্তন রোধে আওলাদ রাকিবের ‘এসইউইএম’

দখিনের সময়
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১, ১৫:২১ অপরাহ্ণ
জলবায়ুর বিরুপ পরিবর্তন রোধে আওলাদ রাকিবের ‘এসইউইএম’

কাজী হাফিজ ।।

সভ্যতা যতটা অগ্রসর হচ্ছে মানুষ প্রকৃতির ততটা নিষ্ঠুর আচারণ করছে। আর নিষ্ঠুর আচরণ কত গুণ ক্ষতিকর হয়ে ফিরে আসছে তা ধারণার বাইরে৷ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দেখাচ্ছেন বিপর্যয়ের অশনিসংকেত ৷

জলবায়ু বিরুপ পরিবর্তন রোধ করে সুষ্ঠ পরিবর্তন আনায়নে শহরে সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

এখন প্রশ্ন হলো এ সমস্যা থেকে কীভাবে উত্তরণ করা যায়?
এমন প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছিলো বরিশালের যুবক আওলাদ হোসেন রাকিবের মাথায়৷ নিজকে সদা সামাজিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত রাখা রাকিব প্রশ্নের উত্তর খুজেও বের করে৷
আর নিজের মাথায় থাকা ধারণাকে একটি সামাজিক প্রকল্পে রুপদান করে জলবায়ুর এর বিরূপ পরিবর্তন মোকাবিলা করতে চায় রাকিব।

আর রাকিব এই প্রকল্পের নাম দেন Sustainable Urban Environmental Management (SUEM)। যা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জাতিসংঘের ২৬ তম জলবায়ু সম্মেলনের চ্যালেঞ্জ ফ্যান্ড বিজয়ী একটি প্রকল্প। দা হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের যুগ্ম সমন্ময়ক কাজী হাফিজুর রহমান ও সালমান এবং আয়োজক দলে ছিলেন লামিয়া ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন।


এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হল শহুরে কৃষিকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তরান্বিত করা যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বাড়ির বর্জ্যকে জৈব সারে রূপান্তরিত করে শহুরে কৃষিতে ব্যবহার করা।
শহরে নগরায়নের ফলে দিন দিন গাছ পালা হ্রাস পাচ্ছে। জায়গার অভাবে রোপন করা যাচ্ছে না গাছ৷ কিন্তু এ সমস্যা সমধান করা সম্ভব ভার্টিকেল গার্ডেনের মাধ্যমে। ভার্টিকেল আকারে গাছ লাগানোর কারনে খুব অল্প জায়গাতেই অনেক গাছ লাগানো সম্ভব । আবার তা যদি হয় বাড়ি অব্যবহৃত বর্জ্য দিয়ে৷ বাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে টব তৈরি করে এবং পচনশীল বর্জ্য দিয়ে সার তৈরি করে গাছ লাগানো।
স্বল্প জায়াগায় করা ভার্টিকেল বাগান গুলো খাদ্য যোগান দিবে এবং বাতাসে অক্সিজেন সরবারাহ ও কার্বন ফুটপ্রিন্টের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন সাধন করবে।

তাই প্রকল্পের শুরুতে ভার্টিকেল গার্ডেনিং সম্পর্কিত দুদিন ব্যাপি প্রশিক্ষণের ” ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট ট্রেনিং অন ভার্টিকাল গার্ডেনিং” এর আয়োজন করা হয় । উক্ত প্রশিক্ষণে তরুনদের এসডিজি-১৩,আপদ, ক্ষতিগ্রস্থতা, গাছের প্রয়োজনীয়তা, প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে টব নির্মান, ভার্টিকেল গার্ডেনিং এবং জৈব সার তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পূণর্ব্যবহার করে প্রকৃতির উন্নয়ন সাধন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণের পর Sustainable Urban Environmental Management ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সো এর মাধ্যমে সকলকে জলাবায়ু মোকাবেলায় উদ্ধুদ্ধ করনের কার্যক্রম চলমান থাকে।

পরবর্তীতে ভার্টিকেল গার্ডেনিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ কারীদের অপরিহার্য শর্ত ছিলো প্লাস্টিকের বোতল এবং নিজেদের তৈরিকৃত জৈব স্যার ব্যবহার করে গাছ লাগাতে হবে।

৬ জুন শুরু হওয়া এ ভার্টিকেল গার্ডেনিং প্রতিযোগিতার ফলাফল গত ৩ জুলাই প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম আনিকা তাসনিম মিম, দ্বিতীয় ফারিহা আহমেদ মিথি এবং তৃতীয় ফারিহা আহমেদ মিথিসহ মোট ১৩ জনকে পুরষ্কৃত করা হয়৷ প্রতিযোগিতায় জয়ীদের প্রাইজমানি ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। বাকিদের বই, ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

আওলাদ রাকিব বলেন, “আমি চেয়েছি এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ইট পাথরের যান্ত্রিকতার মাঝে প্রাণশক্তি জাগ্রত করতে।একটি সুষ্ঠ সঠিক শহর ব্যবস্থাপনায় সকলকে একত্রিত করতে৷ ভার্টিকেল গার্ডেনিং শহুরে কৃষির একটি নতুন উদ্ভাবনী রূপ। এটি সৃষ্টি করবে নান্দনিকতা,বাড়বে গাছের প্রতি ভালোবাসা।তাছাড়া এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, মানসিকভাবেও স্বতঃস্ফূর্ত থাকা এবং খাদ্য চাহিদাও দূর করা সম্ভব ।
আশাকরি এর মাধ্যমে সমাজের তরুণরাও উদ্ধুদ্ধ হবে এবং একটা মডেল দার করাতে পারবো যেটা বরিশাল ছাড়িয়ে পুরো দেশে বিস্তৃতি লাভ করবে। “